
তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহী-১(তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে আপিলের শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বৈধ বলে জানিয়ে দেয় ইসি। এখবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির তৃনমূল ও তারেক অনুসারীরা উৎফুল্লিত। কারন তারেক অনুসারী হিসেবে তৃনমুল কে দলীয় প্রার্থীসহ তার নেতারা কোন ভাবেই মূল্যায়ন করছে না। একারনে তারেক অনুসারীরা হতাশ হয়ে পড়েন। কারন তারা ভোটের মাঠ করলেও তারেক অনুসারী তৃনমুলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছিলেন। তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নের দাবিদার ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য, বিএনপি নেতা, বিশিষ্ট শিল্পপতি এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি যাচাই বাছাই শেষে ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়ায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম তারেক নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে আজ ১৫ জানুয়ারি তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন ইসি।
তারেক অনুসারী একাধিক সিনিয়র নেতারা জানান, এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু কি কারনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলনা সেটা বুঝে আসেনা। কারন যে সব প্রার্থীরা মনোনয়নের দাবি করেছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণ যোগ্য প্রার্থী ছিলেন তারেক। তিনি দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার কারনে মনোনয়ন ফরম জমা দিতেন না। কিন্তু তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিএনপির সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীদের চাপে তিনি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা চাপে ও স্বাক্ষরকৃত ভোটারদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হয় এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করেন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও নেতাকর্মীদের দোয়ায় মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন তিনি ।
এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও নেতাকর্মীদের দোয়ায় শত বাধা পেরিয়ে মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ ভোটারের স্বাক্ষর দিতে হবে এটি একটি কালো আইন। এই কালো আইন বাতিল করা উচিত ছিল। কারন এটি স্বৈরাচার আইন। তারা আমি ডামি নির্বাচনের জন্য এধরনের আইন তৈরি করেছিল। এটা এক ধরনের বৈষম্য। বৈষম্য দূর হওয়া দরকার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ১৫/১৬ বছর যে ভাবে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। বাকি জীবন সে ভাবেই পাশে থাকব। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, অবশ্যই থাকব। শুধু ভোটের মাঠে না যত দিন বেঁচে আছি ততদিন তৃনমুল নেতাকর্মীদের পাশি আছি। এটাই আমার অঙ্গিকার। নেতাকর্মীদের কোন ভাবেই হতাশ হওয়া যাবেনা। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত উপেক্ষা করতে হবে। সকল বাধা পেরিয়ে সত্যের বিজয় হবেই হবে বলে আশাবাদী তিনি। তিনি প্রচার প্রচারণা নিয়েও শংকা প্রকাশ করেন। এজন্য সংশ্লিষ্টদের ভোটের মাঠ যেন সবার জন্য সমান থাকে। সে ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশন কে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন। ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২১ জানুয়ারি বুধবার প্রার্থীতা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ। ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে ১০ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।